
মাইজভাণ্ডারী আধ্যাত্ম শরাফতের মহান প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী হযরত শাহ্ সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) কিবলা কাবা কালাম করেন- “আমার বাগানে আঠার হাজার ফুল আছে” অছি এ গাউসুল আযম হযরত শাহসূফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কর্তৃক উন্মোচিত মাইজভাণ্ডারী তরিকার রহস্যের সাগরে যিনি ডুব দিয়েছেন, অছি এ গাউসুল আযম এবং বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত শাহসূফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী’র অফুরন্ত দয়ার প্রস্রবণ হিসাবে যার আবির্ভাব, দুইজন মহান হাস্তির ফয়জে এত্তেহাদী প্রদানের মাধ্যমে যাকে স্বীয় মুর্শিদ কর্তৃক তালিমে এরশাদী প্রদানের জন্য আদিষ্ট করা হয়েছে, এবং নিজের জীবনের সকল পর্যায়ে যিনি মাইজভাণ্ডারী দর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন তিনিই যুগশ্রেষ্ঠ তত্ত্বজ্ঞানী, মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানসপুত্র, কুতুবুল ইরশাদ হযরত শাহ্ সূফি সৈয়দ নুরুল বখতেয়ার শাহ্ মাইজভাণ্ডারী।
শাহ্ সাহেবের সম্পর্কে ক্ষুদ্র আলোচনা: মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানসপুত্র: মানসপুত্র অর্থ মন হতে জাত পুত্র। অর্থাৎ আদর্শিক পুত্র। শায়খুল আকবর মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী’র মতে- “অলদ ঐ ব্যাক্তি যিনি পিতার গুপ্ত রহস্যের বাহক।”(ফচ্ছে শীষ) তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি পিতার চিন্তাভাবনাকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে ফলপ্রসূ করে তাহাকেও আওলাদ বলে। “(ফচ্ছে নূহ্)
কুতুবুল ইরশাদ্ হজরত শাহ্ সূফি সৈয়দ নুরুল বখতেয়ার শাহ্ মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানসপুত্র। উনার ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং সাংগঠনিক তথা জীবনের সকল পর্যায়ে মাইজভাণ্ডারী দর্শনের ঐশ্বর্য ফুটে উঠে। উনার কথাবার্তা- আচরণ- চালচলনে একজন মাইজভাণ্ডারী’র পরিচয় ফুটে উঠে। তিনি উসুলে সাবয়ার প্র্যাক্টিকেল রুপ। যা উনার এই কালামে স্প্রষ্ট হয়- “আমার প্রেমাষ্পদ অনন্ত অসীম, প্রেমাষ্পদের চরণে নিজেকে সমর্পনের কারণে আজকে চলেছি। কালকে কিভাবে চলব তা নিয়ে আমি ভাবি না।” তাই তিনি মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানসপুত্র হিসাবে সুপরিচিত।
কুতুবুল ইরশাদ: আবিধানিক অর্থে- কুতুব অর্থ ধ্রুবতারা, এরশাদ অর্থ আদেশ। ব্যাবহারিক অর্থ: লক্ষ্যস্থলে পৌছানোর জন্য আদিষ্ট দরবেশ। অনান্য প্রায়োগিক দিক: কামেলের রহস্যপূর্ণ কথাবার্তা, কাজ এর সুনিপুন ব্যাখ্যাদাতা।
৭ সেপ্টেম্বর,১৯৮৩ সাল। স্থানঃ কর্ণফুলি হোটেল, তবলছড়ি বাজার, রাঙ্গামাটি। কথা প্রসঙ্গে শাহানশাহ্ বাবাজান, বখতেয়ার শাহের পরিচয় প্রদানে কালাম করেন,“ইনি (বখতেয়ার শাহ) আমার বাবাজানের (অছি এ গাউসুল আজম) খলিফা। গাউসুল আযমের শানে, বাবাজানের শানে পচিশটি বই লিখেছেন। আমার সেখানে ৫০-৬০ লাখ টাকা খরচ করে ক’বছর ওরশ করাতে এখন লোকজন পোক-জোকের মত ভিড় করেছে”। উক্ত কালাম হতে স্প্রষ্ট হয়- শাহ্সূফি সৈয়দ নুরুল বখতেয়ার শাহ্ ছিলেন মনজিল মকছদে (মাইজভাণ্ডার শরীফ) পৌছানোর জন্য আদিষ্ট ব্যাক্তিত্ব। উনার পচিশটি বই লিখার বিষয়টি মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা বিষয়ে উনার অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমান। ৫০-৬০ লাখ টাকা খরচ করে ওরশ করার ফলে পোক জোঁকের মত মানুষ হওয়ার বিষয়টি মাইজভাণ্ডারী দর্শন প্রচার প্রসারে উনার সাধনার প্রমান। তিনি নিজেও এ বিষয়ে কালাম করেন “মাইজভাণ্ডারী দর্শনের প্রচার প্রসারই আমার আজীবন সাধনা।” তাছাড়া উনাকে ছোটবেলায় হজরত বাবাজান কেবলা কতৃক কমলা প্রদান, অছি এ গাউসুল আজম কতৃক থুথু মোবারক প্রদানের মাধ্যমে ফয়জ প্রদান এবং তালিমে এরশাদী প্রদানের জন্য উপযুক্ত ব্যাক্তিত্ব হিসাবে গড়ে তুলেন।
মুনিবের কালামের ব্যাখ্যা দাতা: তিনি অছি এ গাউসুল আজম এবং শাহানশাহ্ বাবাজানের রহস্যপূর্ণ কালামের সুনিপুন ব্যাখ্যাদাতা ছিলেন। ভক্তকবি শেখ নিজামউদ্দিনের ভাষায়-“প্রমিক নুুরুল বখতেয়ার শাহ্ জানে, শশীকান্ত নাচে কোন বনে।” মহান মুনিবের প্রতি আনুগত্য ও খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ মুনিব কালাম করেছেন- “বখতেয়ার আল্লাহর খলিল।” অছি এ গাউসুল আজম “এলাকার রেনেসাঁ যুগের একটি দিক” গ্রন্থে শাহ্ সাহেবের নাম উল্লেখপূর্বক খেদমতের কথা উল্লেখ করেছেন।
মহান ৬ই ভাদ্র। গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী’র বাগানের মহান ফুল হযরত শাহ্ সূফি সৈয়দ নুরুল বখতেয়ার শাহ্ মাইজভাণ্ডারী’র মহান ওরশ শরীফ বক্তপুর ভাণ্ডার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। কল্যান ও প্রেম প্রত্যাশি আশেকের ভিড়ে মুখরবত হবে তার মহান প্রেমবাগান।
লেখক: সৈয়দ নুরুল হাসনাত