
উত্তর ধর্মপুরে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে
র্যালি, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
ফটিকছড়ির উত্তর ধর্মপুর (আমতলী) এলাকায় পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন এবং বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর চন্দ্রবার্ষিকী উরস শরীফ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১লা রবিউল আউয়াল সকালে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ধর্মপুর ১নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে স্বাগত র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শাখা কার্যালয় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে ফিতির মুহাম্মদ বাড়ি, কারকন শিকদার বাড়ি, আধু তালুকদার বাড়ি, আজগর আলী মুন্সির বাড়ি, এজাহার কোং বাড়ি, পেশকার বাপের বাড়ি, আমতলী বাজার হয়ে গোলপুকুর পাড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাখা কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বাদে মাগরিব শাখা কার্যালয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ধর্মপুর ১নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ দিদারুল আলম মাইজভাণ্ডারী (ম.)। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন হাফেজ মাওলানা আমীর খসরু আল কাদেরী (ম.)। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা হাফেজ আবু নেছার মাইজভাণ্ডারী (ম.)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, ফটিকছড়ি ‘ঘ’ জোনের সমন্বয়কারী মাষ্টার নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়কারী মাষ্টার আজিম উদ্দীন, মাষ্টার রফিকুল আলম ও শফিউল বশর বাবলু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অত্র শাখার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মোহাম্মদ আলী। এছাড়া বাদে এশা আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র নাতে-এ মোস্তফা (দ.)ও মাইজভাণ্ডারী কালামের জলসা। এতে কালাম পরিবেশন করেন কাওয়াল মোহাম্মদ শাহাজান। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রশংসনীয় আয়োজন ছিল গাউসিয়া রজভীয়া এজহারুল উলুম সুন্নীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। আয়োজকরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবকল্যাণের চেতনাকে ধারণ করাই এসব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মিলাদ, নাতে মোস্তফা ও মাইজভাণ্ডারী কালামের আবহে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠান শেষে আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে তাবারুকাত বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় আবেগ, সম্প্রীতি ও মানবিকতার সমন্বয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।