চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮নং ধর্মপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী "হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ" সংক্রান্তে বিগত ২৮/১১/২০২৫ ইং তারিখে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার ৭নং পৃষ্ঠার ৬নং কলামে কথিত মোতোয়াল্লী জনৈক সেলিম উদ্দিন এর পক্ষে সেলিম এস. ইউ চৌধুরী, এ্যাডভোকেট, জজ আদালত, চট্টগ্রাম, রুম নং-৬৫৩, আইনজীবী এনেক্স ভবন, কোর্ট হিল, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রদত্ত লিগ্যাল নোটিশ আমার মক্কেল মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হইয়াছে।উক্ত লিগ্যাল নোটিশে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী, সুপরিচিত "হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ" ও মসজিদের কবরস্থানের জায়গা সংক্রান্ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন, আজগুবি, কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য উপস্থাপন করিয়া স্থানীয় জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করিবার অপপ্রয়াস বিধায় লিগ্যাল নোটিশের জবাবদাতা মক্কেল তাহা অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত অস্বীকার করেন।
প্রকৃত বিষয় এই যে, আমার মক্কেল মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী'র পূর্ববর্তী জনাব হাছন আলী দারগা প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে স্থানীয় মুসলিম জনসাধারণের এবাদত বন্দেগী সুবিধার্থে একখানা মসজিদ নির্মাণ করেন।উক্ত মসজিদখানা তৎ সময় হইতে অদ্যাবধি পর্যন্ত হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ নামে সমাধিক পরিচিতি লাভ করে। উক্ত হাছন আলী দারগা মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর হইতে হাছন আলী দারগার পরবর্তী ওয়ারিশগণ উক্ত মসজিদ পরিচালনা করিয়া আসেন। পরবর্তীতে উক্ত মসজিদ সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য স্থানীয় ধর্মপ্রাণ, দানশীল ব্যক্তি জনাব আমিন শরীফ, পিতা- ইজ্জত আলী ২৫ শতক সম্পত্তি ৫১ নং ওয়াক্ফনামা (ইসি-৫২২২) মূলে হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করেন। ১৯৩৭ সালে রেজিষ্ট্রিকৃত উক্ত ওয়াক্ফনামা দলিলে উক্ত সেলিম উদ্দিন এর চাচা বজলুর রহিম (পিতা –মোঃইব্রাহিম ) এর অন্যতম সাক্ষীদাতা হিসেবে স্বাক্ষর রইয়াছে। তাছাড়া উক্ত মসজিদের আশেপাশে সমুদয় সম্পত্তি হাছন আলী ও তাহার ভ্রাতা নাজির আলীর ওয়ারিশগনের । স্মরণাতীতকাল হইতে হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রম—যথা ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ, মসজিদ সংস্কার, উন্নয়নসহ সকল ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কার্যাবলি—হাছন আলী দারগার পরবর্তী ওয়ারিশগণ এবং আমিন শরীফ, তাহার ভ্রাতা দৌলত শরীফ ও দুলা মিয়ার ওয়ারিশগণসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় সুচারুরূপে পরিচালিত হইয়া আসিতেছে।
বর্তমানে কিছু কুচক্রী মহল ও দুষ্টু লোকের কুপ্ররোচনায় কথিত মোতোয়াল্লি সেলিম উদ্দিন ও ইউসুফ গং, হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নাম পরিবর্তন করিয়া ভিন্ন নামে মসজিদের নামকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। অথচ উক্ত এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির বিবাহের কাবিননামায়, আকদ্ পাঠের স্থান ও ইমামের পরিচয় হিসেবে হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নাম উল্লেখ রহিয়াছে। বিভিন্ন সময়ে উক্ত মসজিদে বার্ষিক মাহফিল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হইলে তাহা বিভিন্ন পত্রিকায় হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ নামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য যে গত ২৪ অক্টোবর ২০২২ ইং দৈনিক আজাদী পত্রিকায় উক্ত সেলিম উদ্দিন তার পারিবারিক মিলাদুন্নবী উদযাপনের স্থান মুন্দার বাড়িতে এই মসজিদের নাম “হাছন আলী দারগা” জামে মসজিদ হিসেবে সংবাদ প্রচার করেন। তাছাড়া উক্ত মসজিদ উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ হইতে বরাদ্দপ্রাপ্ত তালিকায়ও হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে এবং উক্ত অনুদানকৃত অর্থ দিয়ে নির্মিত সীমানা দেওয়াল উদ্বোধনের নাম ফলকে স্পষ্টভাবে হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নাম উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য যে, সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর নির্দেশক্রমে অভিযোগের শুনানির পূর্ববর্তী তদন্তের জন্য ধর্মপুর ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারের আগমনের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া কতিপয় কুচক্রী ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদের উদ্বোধনী নামফলক ভাঙচুর করিয়া সরকারি ও ধর্মীয় সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করে এবং নামাজের সময়সূচী ও মসজিদের নাম সম্বলিত ঘড়িটি অপসারণ ও গোপন করিয়া তদন্ত কার্যক্রমে প্রমাণ নষ্ট ও বিচার কার্য ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালায়। লিগ্যাল নোটিশ দাতা সেলিম উদ্দিন কর্তৃক মসজিদের নামকরণ বিষয় নিয়ে ফটিকছড়ির মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করিলে উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করিয়া এবং যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ পর্যালোচনা করিয়া মসজিদের প্রকৃত নাম হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ নামে পরিচিত মর্মে বিগত ১২/০৮/২০২৫ ইং তারিখে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।পরবর্তীতে ১৮নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে মসজিদের নামকরণ সম্বলিত যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ সহ মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রদত্ত হাছন আলী দারগা জামে মসজিদ নামকরণের সত্যতার স্মারকলিপিটি জমা দিলে মাননীয় চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মহোদয় সকল দলিল দস্তাবেজসমূহ পর্যালোচনা করিয়া হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নামে একখানা প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন।
৩০০ বছরের পুরাতন সুপ্রতিষ্ঠিত মসজিদের নাম কে পরিবর্তন করিবার জন্য কিছু কুচক্রী, স্বার্থপরায়ণ ও পরশ্রীকাতর ব্যক্তি উঠিয়ে পড়িয়া লাগিয়াছে, যাহার ফলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে স্বীকৃত হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নাম পরিবর্তন করিবার অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিথ্যা ও তথ্য বিভ্রাটের ভরপুর ও কল্পকাহিনী অবতারণা করিয়া লিগ্যাল নোটিশ (প্রকৃতপক্ষে লিগ্যাল নোটিশ নহে) প্রদান করিয়া এলাকার জনসাধারণকে বিভ্রান্ত ও হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হাছন আলী দারগার পরবর্তী প্রজন্মকে হেয় প্রতিপন্ন করিবার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন, যাহা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র।
এমতাবস্থায় অত্র লিগ্যাল নোটিশের জবাব এর মাধ্যমে অনুরোধ করা যাইতেছে যে, অত্র লিগ্যাল নোটিশের জবাব প্রচারের পর অনতিবিলম্বে উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার করিয়া প্রকৃত সত্য অনুধাবন করিয়া প্রতিষ্ঠাতা হাছন আলী দারগার সুনাম ও সুখ্যাতি অক্ষুন্ন রাখিবার নিমিত্তে হাছন আলী দারগা জামে মসজিদের নামকরণ নিয়ে কোনরূপ বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করিয়া উক্ত জামে মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রম মুসল্লিবান্ধব ও স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আপনার মক্কেলকে পরামর্শ প্রদান করিবেন। অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত যাবতীয় পরিস্থিতির জন্য আপনার মক্কেলই সরাসরি দায়ী থাকিবেন।
ধন্যবাদান্তে
এ.টি.এম শোয়েব
অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম।
রুম নং-১০০৭(১ম তলা), আইনজীবী এনেক্স ভবন-২, কোর্ট হিল , চট্টগ্রাম।
মোবাইল: ০১৭১০ ৭৪১৩৬৭