এ সত্যটি আজ তীব্র বিশ্লেষণসাপেক্ষ ও গভীর অনুধাবনযোগ্য। মানুষ যতই সুপারসনিক হয়ে উঠছে, তার অনুভূতি ততো ভোতা হয়ে আসছে, সে ক্রমান্বয়ে মানবিক নিষ্ক্রিয়তায় পতিত হয়ে বেধড়ক প্রহসননির্ভর হয়ে পড়েছে। কানে তুলো, চোখে টুলী এটে তার চারপাশের এতো অজস্র কাও কীর্ত্তন, নিপীড়ন-নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি বিচার প্রহসন, লুষ্ঠিত আর্ত মানবতার ক্রন্দন না শুনা না দেখার ভান করে। নির্বিবাদে এড়িয়ে যাচ্ছে। জাতির শিক্ষিত সচেতন মানুষের এ হেন পাশ কেটে যাবার প্রবণতা বড়ই করুণ, যেনো কোথাও কোন মুরুব্বী নেই, গাইড লাইন নেই, যেনো তেনো প্রকরেণ, রাষ্ট্রীয় সমাজ ব্যবস্থায় উতুঙ্গ হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেয়া। এটাই স্থায়ী বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, চির অবক্ষয় ও ধ্বংস এ ভাবেই গোটা জাতিকে গ্রাস করে ফেলে। ভালো মন্দ কেউ আর তখন বাছতে পারে না। মসীলীপ্ত ললাটে করাঘাত হেনে একবাক্যে, সবাইকে বলতে হয় হায়। কি হলো, কি হলো। অমানবিক বিষয়গুলোকে পূর্বেই ঠেকানো হলোনা কেনো। এ কারণেই বলতে হয়, সৎ গার্জেন, মুরুব্বীদের সচেতনতার কথা।
কখনো হাল ছেড়ে দিতে নেই, শিক্ষিত সচেতন ধনী হৃদয়বান নাগরিকগণই প্রকৃতপক্ষে দেশ জাতি ও সমাজের মুরুব্বী। তাদের প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ তত্ত্বাবধানেই রাষ্ট্রের কোটি কোটি মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয়। ওদের সুখ আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, মানবিকবোধ বিষয়গুলোর সঙ্গে এরাই সমধিক কার্যকরী সহায়ক। অতএব এদের হাত গুটিয়ে নিলে চলবে না। নিষ্ক্রিয় থাকলে চলবে না।
যে কোন সংকট অবক্ষয়ের মুখে কঠোর সাহসী ভূমিকা নিয়ে এগুতে হবে। শক্ত হাতে ধরে রাখতে হবে। কোন কিছুই আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে দেয়া যাবে না।
অনেকে আছেন কোন রূপ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না গিয়েও আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। ধন তাদের সাপোর্টে থাকলেও মনের ঐশ্বর্য ও দায়িত্ববোধ মহান ও বিশাল মর্যাদায় তাদের আদ্ভুত রেখেছে। অমানবিক কূপমণ্ডুকতা কুসংস্কার ঝেটিয়ে বিদায় করে দিয়ে নানাভাবে সমাজ সংস্কার করেছেন, শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত করে দিয়েছেন।
লেখকঃ ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য।