একটি পরিচয়পত্র থেকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বিদ্যালয়, একটি বিদ্যালয় থেকে একটি আলোকিত প্রজন্ম,
আর একটি আলোকিত প্রজন্ম থেকেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
একটি আইডি কার্ড হয়তো ছোট্ট একটি কার্ড, কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এটি হতে পারে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। গত প্রায় ১০ বছর ধরে পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত আইডেন্টিটি কার্ড ছিল না। স্কুলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে এবং আমি উপলব্ধি করি—বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক, ইভটিজিং, কিশোরদের নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়া, গ্রুপিং, সামাজিক বিরোধ কিংবা রাস্তাঘাটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা—এসব থেকে আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনা থেকেই আজ পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করা হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যখন তাদের নিজের স্কুলের পরিচয়পত্র তুলে দিলাম, তাদের চোখেমুখে যে আনন্দ দেখেছি—সত্যিই তা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। আজ তারা শুধু একটি কার্ড গ্রহণ করেনি—তারা তাদের প্রিয় বিদ্যালয়ের একজন গর্বিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচয়কে আরও দৃঢ় করেছে। আর শিক্ষকদের আইডি কার্ডও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমি স্বপ্ন দেখি— পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় আবার তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। আগামী অভিভাবক সম্মেলনে আমরা শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নয়— ভালো মানুষ তৈরি করা। যে বিদ্যালয় থেকে আগামী দিনে বের হবে— ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য মানুষ। আজ হয়তো আমরা একটি আইডি কার্ড দিয়ে শুরু করেছি। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। একটি পরিচয়পত্র থেকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বিদ্যালয়, একটি বিদ্যালয় থেকে একটি আলোকিত প্রজন্ম, আর একটি আলোকিত প্রজন্ম থেকেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি— শিক্ষক যদি আন্তরিক হন, অভিভাবক যদি সচেতন হন এবং শিক্ষার্থী যদি স্বপ্ন দেখতে শেখে, তাহলে একটি বিদ্যালয়ের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে তার গৌরবময় ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিতে আমি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই। আমি গর্বিত—কারণ পরিবর্তনের এই ছোট্ট যাত্রার একজন দায়িত্বশীল অংশীদার হতে পেরেছি। পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি লায়ন মাসুদুল আলম চৌধুরী (মাসুদ) উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক বাবু গোবিন্দ দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী, শিক্ষক প্রতিনিধি তসফিক উদ্দিন আহমদ, সহকারী শিক্ষক জান্নাতুন নুর, মিসেস চন্দনা প্রভা ভৌমিক, মিসেস দীপ্তি রানী পাল, মোকতারুল আলম, এমদাদ হোছাইন,মুহাম্মদ ইয়াছিন, বাবু সতীশ চন্দ্র রায় প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ, মোহুরম আলী, শোভা বডুয়া।