ড.বরুণ কুমার আচার্য বলাই:-বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর করুণাধন্য হযরত মীর মোহাম্মদ অলি উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১৬ আশ্বিন আজ ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি নানুপুর হযরত মাওলানা মীর শরাফত উল্লাহ্ (রহঃ)'র বাড়ীস্থ রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ওরশ উপলক্ষে রওজা শরীফ গোসল,কোরআন খতম,গাউছিয়া খতম,আলোচনা সভা,মিলাদ শরীফ,তাবরুক বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। এতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে দাওয়াত জানিয়েছে।উল্লেখ্য , হযরত বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর করুণাধন্য হযরত মীর মোহাম্মদ অলি উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহ.)। তিনি ১৯৫৯ সালের ২৭ মার্চ, ১৩৭৮ হিজরীর ১৭ রমজান, ১৩৬৫ বাংলার ১৩ চৈত্র ফটিকছড়ির নানুপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছৈয়দ মীর নুরুল ইসলাম ও মাতার নাম মোছাম্মৎ নূর নাহার। ছৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণকারী হযরত মীর মোহাম্মদ অলি উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)'র পূর্ব পুরুষের অনেকেই মহান আউলিয়া ছিলেন এবং তাঁহাদের বাড়িটি বিভিন্ন আউলিয়া কেরামের পদচারনার পূণ্যভূমি ছিল। তিনি গৃহ শিক্ষকের মাধ্যমে আরবী শিক্ষা লাভকরেন, নানুপুর এ এস প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাইমারী শিক্ষা, নানুপুর আবু সোবাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করেন এবং নাজিরহাট কলেজে ডিগ্রী পড়েন। নাজিরহাট কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় শ্রেণী কক্ষেও তিনি প্রায়ই মাইজভাণ্ডার শরীফ নিয়ে আলোচনারত থাকতেন। এমনকি ডিগ্রী পরীক্ষার সময় তিনি ভাববিভোর অবস্থায় পরীক্ষার খাতায় হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ও হযরত গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)'র জীবনী লিখতে থাকেন। এমতাবস্থায় নাজিরহাট কলেজের সম্মানিত শিক্ষক ইদ্রিস স্যার উনাকে বলেন যে, কি অলি উল্লাহ তুমি এগুলো কি লিখতেছ? জবাবে তিনি বলেন যে, দুনিয়াবী পার্থিব মিত্যাচারের চাইতে আল্লাহ ও রাসুল (দঃ) এর সান্নিধ্যে থাকা উত্তম নয় কি? এমতাবস্থায় স্যার উনার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সে স্থান ত্যাগ করেন। পরের দিন থেকে মীর মোহাম্মদ অলি উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহ.) পরিক্ষার হলে যাননি। এর পর থেকে তিনি সব সময় দরবার শরীফে অবস্থান করতেন। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতে রাতের পর রাত জেগে থাকতেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আঙ্গিনায়। খাওয়ায়া দাওয়া করতেন খুব অল্প। এক বেলা খেলে অন্য বেলায় খেতেননা। অনেক সময় একনাগাড় বেশ কয়েকদিন না খেয়ে থাকতেন। বিশেষ করে তিনি বেশি করে চা পান করতেন। অনেক সময় দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতেন।কঠোর রেয়াজত,প্রেম ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি মহান মুনিবের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেন।২০১৭ সালের ১ অক্টোবর, ১৪৩৯ হিজরীর ১০ মহররম, ১৪২৪ বাংলার ১৬ আশ্বিন ওফাত লাভ করে মহান প্রভুর সাথে মিলিত হন তিনি।