শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাইজভান্ডার শরীফ শাহী ময়দানে পবিত্র ঈদ উল ফিতর এর জামাতে অংশ নেন হযরত সৈয়দ হাসান মাইজভান্ডারী (মাঃ) মাইজভান্ডারি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে ঈদ বস্ত্র-সামগ্রী প্রদান মাইজভান্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিলে বাবা ভাণ্ডারী-র চাহরাম শরীফ সম্পন্নঃ খুলশী যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এতিম শিশু ও পথচারী রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ লাইলাতুল কদর মাহফিলে গাউসুলআজম মাইজভাণ্ডারীর রওজা-এ-পাক জিয়ারতরত শাহসুফি সৈয়দ সহিদুল হক মাইজভাণ্ডারী কাঞ্চনা পল্লী কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। নাজিরহাটে হক কমিটির ঈদ উপহার বিতরণ বাবা ভান্ডারীর ওরশ শরীফের আখেরি মোনাজাতে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক মনজিলে বাবা ভান্ডারীর ৮৮তম ওরশ উদযাপন, ফটিকছড়ি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের মত বিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত,
নোটিশ :

মাইজভান্ডারীয়া তরিকার’খাজায়ে আজমিরী’ লেখক:- আল্লামা সাইফুল্লাহ ফারুকী চরণদ্বীপি

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত যে অধিক পরহেজগার।’ আল কোরআন, সুরা হুজুরাত, আয়াত নং ১৩।
আল্লাহ জাল্লা শানুহু যে সমস্ত বান্দাদেরকে স্বীয় বেলায়ত দানে ধন্য করেছেন তারা আওলিয়া আল্লাহ হিসাবে জগতজোড়া খ্যাতি, সম্মান ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (দঃ) কর্তৃক প্রচারিত ইসলামের মূল নির্যাস ও অন্তর্নিহিত পথপরিক্রমা তরিকত ও তাসাউফ মানুষের আভ্যন্তরীণ পঙ্কিলতা বিদূরীত করে আল্লাহর নুরের তাজাল্লী ধারণের মাধ্যমে পবিত্র ও নুরানি ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ার সুমহান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে। চিশতীয়া তরিকার মহান শায়খ খাজায়ে খাজেগান, আতায়ে রাসুল, গরীবে নেওয়াজ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী (রঃ) ইসলামের আমলি দিক শরীয়ত ও আভ্যন্তরীণ দিক তরিকতের অপূর্ব সুসামঞ্জস্য সাধনের মাধ্যমে মারেফতের ফল্গুধারা প্রবাহিত করে মানবকে সিক্ত করেছেন । তদ্রুপ মাইজভান্ডারীয়া তরিকায় হজরত মাওলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান ফারুকী (কঃ) সেই ধারাবাহিকতায় শরীয়ত ও তরিকতের মৌলিক শিক্ষা ও ইশকে ইলাহীর স্বর্গীয় প্রেম প্রেরণায় ইসলাম, ইমান, হেদায়ত, মারেফত ও তরিকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার মূল নির্যাস এতদঞ্চলের মানবের নিকট পৌছিয়ে বেলায়ত রপ্তের সুমহান শিক্ষা, আদর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদানে অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ায় স্বীয় পীর ও মুর্শিদ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) নিজ জবানে ‘খাজা আজমিরী’ অভিধায় অভিষিক্ত করেন।

রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র দিদার ও নির্দেশনা লাভ:
খাজা আজমিরী (রঃ)’র জীবনচরিত উপর লিখিত গ্রন্থাবলীতে উক্ত রয়েছে যে, হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি আজমিরী (রঃ) স্বীয় মুর্শিদ খাজা ওসমান হারুনী (রঃ)’র সাথে মক্কা শরীফে হজ্ব সমাপন্তে মদীনা শরীফে প্রিয়নবী (দঃ)’র রাওজায়ে আকদাসে জিয়ারতে নিমিত্তে হাজিরা দেন। মদিনা শরীফে অবস্থানকালীন সময়ে স্বপ্নে নবীজী (দঃ) দর্শন ও দিদার প্রদান করে খাজা গরীবে নেওয়াজ (রঃ)’কে ইরশাদ করেন, ‘আজ থেকে তোমার উপাধি মঈনুদ্দীন (দ্বীনকে সাহায্যকারী)। আমি তোমাকে হিন্দুস্থানের দায়িত্ব প্রদান করেছি। সেখানে গিয়ে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে দিবারাত্র খেদমতে নিয়োজিত হও। মানুষদেরকে ইসলামের দাওয়াত দাও। হিন্দুস্থানের আজমির শহরে তোমার স্থান। আমার দোয়া তোমার সাথে রয়েছে। আল্লাহ তোমার উত্তম সাহায্যকারী।’

মাইজভান্ডারীয়া তরিকার ‘খাজায়ে আজমিরী’ উপাধিপ্রাপ্ত হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (রঃ)’র জীবনী ও কেরামত’ গ্রন্থে প্রিয়নবী (দঃ) কর্তৃক দিদার ও নির্দেশনা প্রদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। হিন্দুস্থানের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিদ্যা নিকেতন ‘আলীগড় জামেউল উলুম মাদরাসায় মুহাদ্দিস থাকাকালীন প্রিয়নবী (দঃ) হজরত অছিয়র রহমান চরণদ্বীপি (রঃ)’কে স্বপ্নে দর্শন প্রদান করে ইরশাদ করেন,
‘প্রিয় বৎস, তোমার জন্য আমি মনোরম ছুরত পাঠিয়েছি। শীঘ্র গিয়া শিকার কর, তোমার তীরে বিদ্ধ হবে মাশুকের মিলন হবে। আমার হাবীব মোজাদ্দেদে জমান গাউছে আজম বেলায়তে মোতলাকায়ে আহমদী (যুগ প্রবর্তকের) প্রথম দ্বার স্বরূপ কর্মসূচি গ্রহণ কর। তাঁর ভাণ্ডারস্থ অমূল্য রত্ন আহরণ কর। সেই স্বর্গীয় পুষ্প উদ্যান তোমারই জন্য উন্মুক্ত। তুমি তাঁর ধনে ধনী হয়ে ভ্রমান্ধ মানব সন্তানকে প্রেম প্রেরণায় জাগ্রত করে তোল। আধ্যাত্মিক নেয়ামত বিতরণ করতঃ তত্ত্বজ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত করে তোল। তিনি তোমার অপেক্ষায় আছেন। তাঁহার প্রেমভাণ্ডারের কুঞ্জি আমি তোমার হাতে সমর্পণ করলাম। মাদ্রাসার শিক্ষকতা হইতে আমি তোমাকে রোখছত (বিদায়) দান করলাম। তুমি দেশে চলিয়া যাও।’

উপরিউক্ত তাৎপর্যমন্ডিত ঘটনাদ্বয়ের নিরিখে অনুমিত যে, চিশতীয়া তরিকার খাজা ও মাইজভান্ডারীয়া তরিকার খাজা উভয় শায়খদ্বয় খাজা প্রিয়নবী (দঃ) কর্তৃক দিদার ও নির্দেশনার আলোকে ইসলাম, ইমান ও তরিকতের খেদমতে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন।

গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (রঃ) কর্তৃক ‘খাজা আজমিরী’ উপাধি প্রদান :
১৯২৮ সালে সংকলিত ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত ‘হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী (রঃ) জীবনী ও কেরামত’ গ্রন্থের ১২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে:
রাউজান গশ্চি নিবাসী জনাব মওলানা সৈয়দ হাসান সাহেব (রঃ) একজন ধর্মভীরু পরহেজগার আলেম ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন- আমি হযরত আকদছ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর বহু প্রশংসা শুনে তাঁর খেদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট বায়াত হওয়ার প্রার্থনা করলাম। জনাব হযরত আকদছ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) কেবলা বলেন- ‘মিঞা তুমি খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী আজমিরী (ক.) হাতে বায়াত হও।’ আমি বললাম, হুজুর! তিনি যে ওফাত হয়েছেন। প্রতি উত্তরে হযরত আকদছ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) বলেন- ‘মিঞা তোমাকে কে বলেছে?’ খাজায়ে আজমিরী ওফাত হয়েছেন। কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে চরণদ্বীপ গ্রামে খাজায়ে আজমিরী সাহেব তোমার জন্য এক জাম দুধ নিয়ে বসে রয়েছেন। তোমাকে রোখছত করলাম, চলে যাও।’ তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, মওলানা আকদছ অছিয়র রহমান চরণদ্বীপি (ক.) এর খেদমতে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে একদা আমি চরণদ্বীপ মওলানা আকদছ অছিয়র রহমান চরণদ্বীপি (ক.) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম তিনি এক জাম দুধের সরবত ভক্তগণের মধ্যে বিতরণ করছেন। তখন হযরত আকদছ কেবলা গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর রহস্যময় বাণীর মর্ম উপলব্ধি করলাম। জনাব মওলানা আকদছ অছিয়র রহমান চরণদ্বীপি (ক.) আমার দিকে দৃষ্টিপাত করতঃ মৃদু হাস্যে বলেন, ‘মিঞা খাজায়ে আজমিরী (ক.) ওফাত হন নাই। তোমার জন্য দুধের জাম নিয়ে বসে রয়েছেন।’ এই বলে তিনি আমাকে এক চামচ দুধের সরবত পান করালেন। তৎপর আমার যে অবস্থা হল, আমি তা বলতে পারব না। হয়তো আমি উন্মত্ত পাগল হয়েছিলাম। বেখুদী অবস্থায় অজ্দ ও রোখছ করেছিলাম। কবি যথার্থ বলিয়াছেন-
‘এক পেয়ালে মে মস্ত হো জানা , ইয়ে তামাশা সরাব মে দেখা।’ এই অবস্থায় কিছু দিন অতিবাহিত হলে জনাব মওলানা আকদছ অছিয়র রহমান চরণদ্বীপি (ক.) আমার মস্তকে মোবারক হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে আমি প্রকৃতিস্থ হলাম এবং তাঁর খেদমতে আসা-যাওয়া করে ফয়েজ নেয়ামত হাছেল করতে থাকি।

শায়েরে ভান্ডার ‘নাইয়ার’ কর্তৃক লিখিত



ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা