মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সূর্যগিরি আশ্রমের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ যুগ যুগ ধরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আহলে বায়তে রাসুল(দঃ) এর কোরবানী চিরস্মরণীয় মুজিব শতবর্ষ স্বপ্নযাত্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউনিফর্ম বিতরণ, ইমাম হোসাইন (রাঃ)’র শাহাদাতের মাধ্যমে হক ও বাতিল এবং মুনাফিক এর পরিচয় পাওয়া যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ১১ মহরম ১৮ জুলাই শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত. বাগীশিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সংসদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ২৬ জুলাই সূর্যগিরি আশ্রমের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সনদ বিতরণ প্রিয় নবি (সাঃ) উম্মতের জন্য কারবালার ময়দানে আহলে বাইতের কুরবানী সর্বোচ্চ ত্যাগ এর শিক্ষা দেয়” লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফটিকছড়ির উদ্যোগে সূর্যগিরি আশ্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৪ শুরুঃ
নোটিশ :

গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারির (ক.) ১১৮তম বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুুষ্ঠিত

লাখ লাখ আশেক ভক্তের সমাগম ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে
মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক হযরতএ গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারির (ক.) ১১৮তম বার্ষিক ওরশ শরীফ।
২৪ জানুয়ারী বুধবার দিবাগত রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় ওরশ শরীফ।

রওজা শরীফ গোসল,গিলাফ ছড়ানো,মিলাদ ক্বেয়াম,আলোচনা সভা,সেমা মাহফিলসহ বিভন্ন কর্মসূচী পালন করে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফস্থ বিভিন্ন মনজিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ওরশ শরীফে আগতদের সুবিধার্থে প্রশাসনেরও ব্যপক প্রস্তুতি ছিল।

দেশ–জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী(ম.),হযরত
ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী(ম.),হযরত সৈয়দ সহিদুল হক মাইজভাণ্ডারী(ম.) ও গাউছিয়া হক মনজিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী(ম.)। এছাড়া আখেরী মোনাজত পরিচালনা করেন অন্যান্য মনজিলের প্রধানগণ।

গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলঃ
ওরশ উপলক্ষে সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)’র আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় এবং নায়েব সাজ্জাদানশীন, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিআইআরআই)’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১০ দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহান আল্লাহর অলিগণের কারণে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। ইসলামের ক্রাান্তি লগ্নে সবসময় সুফীসাধকরাই ধর্মের আধ্যাত্মিক ও শরীয়তের অবকাঠামোর রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক আদর্শ ও বিশ্বাসের সাথে সমাজ সংস্কৃতির নৈতিক সংস্কারে আধ্যাত্মিক পূর্ণতা লাভের কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দুল হক খান, ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর এবং আওলাদে গাউছুল আজম শাহজাদা সৈয়দ মানাওয়ার হোসাইন। আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সচিব শেখ মুহাম্মদ আলমগীরের পরিচালনায় ওরশে মিলাদ পরিচালনা করেন দারুত তায়ালীম প্রধান শিক্ষক মওলানা জয়নাল আবেদীন ছিদ্দিকী।
সুষ্ঠুভাবে ওরশ সমাপ্ত করতে সহযোগিতা করায় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)।

আলহাজ্ব ডাঃ সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংমিশ্রনে উদ্ভাবিত অসাম্প্রদায়িক আধ্যাতিকতা, সাম্য ও সৌহার্দমন্ডিত মাইজভান্ডারী তরিকার অন্তর্নিহিত নির্যাস বিশ্বশান্তি ও মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।” তিনি মহান ১০ মাঘের ওরশে আগত আশেক- ভক্তদের নিয়ে দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তির জন্য মোনাজাতের মাধ্যমে দোয়া করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের নায়েব মোন্তাজেম ও ওরশ শরীফ সুপারভিশন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহজাদা সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম রুবাব মাইজভাণ্ডারী, আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভান্ডারীর সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জাকারিয়া, মহাসচিব আলহাজ্ব সৈয়দ মাহমুদুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি জনাব খালেদ হোসেন খান মাসুক, আঞ্জুমানের যুগ্ম-সচিব জনাব নুরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। এর আগে দিনব্যাপী কোরআন খানি,তাওল্লুদে গাউছিয়া, মিলাদ নবী (দ.) বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দোয়া কামনা করা হয়। বাদ মাগরিব থেকে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের উদ্যাগে শানে বেলায়ত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে তকরির পেশ করেন আল্লামা ফরিদুল আলম রেজভী (ম.) ও আল্লামা আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.) মুনাজাত পরিচালনা করেন-মাজার শরীফের খাদেম মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ এনাম, মাহফিল পরিচালনায়-মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী সেলিম ও মুহাম্মদ সাকেরুল ইসলাম তারেক।

দরবারে পাকে গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলে শানে বেলায়ত মাহফিল,জিকরে সা’মা মাহফিল,শাহী ময়দানে উন্মুক্ত তাবারুক বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসুচির আয়োজন করেছেন গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর প্রপৌত্র জাঁ-নশীনে অছিয়ে গাউসুল আজম শাহসুফি সৈয়দ সহিদুল হক মাইজভাণ্ডারী।
তিনি বলেন,মাইজভাণ্ডারী সুফিদর্শনে সপ্তকর্মপন্থা নৈতিক জীবনের তাগিদ দেয়, মহান ১০ই মাঘ আমাদের আদর্শে উজ্জীবিত করে।

আলহাজ্ব শাহসুফি সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারী মাহফিলের (ক.)’র পক্ষে তারঁই স্থলাভিষিক্ত জিম্মাদার আওলাদ,মোন্তাজেম ও সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব শাহসুফি সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভাণ্ডারী (ম.) ও আলহাজ্ব শাহসুফি সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল মাইজভাণ্ডারী (ম.) এঁর আয়োজনে,আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী এবং ওরশ শরীফ ব্যবস্থাপনা কমিটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে মহাসমারোহে ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।

গাউছিয়া হক মনজিলঃ
মাইজভাণ্ডার শরিফ ‘দরবার-ই গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র প্রপৌত্র ও উত্তরাধিকারী এবং অছিয়ে গাউসুল আযম শাহ্ সুফি হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর নামে প্রতিষ্ঠিত গাউসিয়া হক মনজিলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়োছে। প্রধান দিবসের আগেরদিন বা’দ আসর পবিত্র রওজা গোসলের পর খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, খতমে খাজেগান এবং মিলাদ পাঠের মাধ্যমে উরস শরিফের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৯ মাঘ হতে দেশের দূর-দূরান্ত হতে বিপুল ভক্ত-আশেকের সমাগম ঘটে। রাতে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠী’র শিল্পীরা সামা মাহফিলে সুফি সংগীত পরিবেশন করেন।
গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ১১৮তম উরস শরিফ উপলক্ষে তাঁর রওজা শরিফকে ঘিরে ভক্ত জনতা দোয়া, দুরূদ, মিলাদ, কিয়াম ও জিকির আজকারে মশগুল থাকেন। এ মহান অলির উসিলায় নিজেদের হাজত মকসুদ পূরণ ও আল্লাহ্ পাকের নৈকট্য অর্জনের অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানান ভক্ত জনতা।
রাত সাড়ে বারটায় কেন্দ্রিয় মিলাদ মাহ্ফিল ও আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র প্র-প্রপৌত্র, গাউসিয়া হক মন্জিলের সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসূল হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মঃ)।
গাউসিয়া হক মন্জিল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ওরশ শরীফে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৮টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, উপদেশ ও দিক-নির্দেশনা সম্বলিত প্রচার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওযু এবং অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা। আশেক-ভক্তদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ২৩ জানুয়ারি হতে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নাজিরহাট ঝংকার মোড় হতে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পুরো এলাকা জুড়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং নগরীর মুরাদপুর থেকে মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহী গেইট পর্যন্ত বিআরটিসি’র বিশেষ বাস সার্ভিস চালু ছিল।

এদিকে ওরশ শরীফে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশেক ভক্ত আসতে শুরু করেছে। ঢোল বাদ্য সহকার গরু ছাগল মহিষসহ বিভিন্ন হাদিয়া নিয়ে দরবারে আসছেন।
রওজায় রওজায় চলছে আশেক ভক্তের ইবাদত বন্দেগী,জিকির আজগার,মিলাদ মাহফিল ও জিয়ারত।
ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঢোল বাদ্য বাজনা ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন।
এছাড়া ওরশ শরীফ কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ লোকজ মেলা।
মেলায় পোষাক,রকমারী খাবার গৃহস্থালি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দা ছুরি বটি,বেত সামগ্রী, বেড়া, চাটাই, মাছধরার ফাঁদ, হাতপাখা, মোড়া, ফুলদানি,হাঁড়ি পাতিলসহ ঘরে ব্যবহারের ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
তাই মাঘের মেলার জন্য ঘরের বউ ঝিঁয়েরাও অপেক্ষয় থাকে।
স্থাণীয়দের পাশাপাশি উপজাতীয়দেরও উপস্থিতি দেখা যায়।
এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ বড় বড় সাইজের জাপনী মুলা বিক্রি যা ভাণ্ডারী মূলা নামে খ্যাত। মেলার বিভিন্ন স্থানে জমজমাট মূলা বিক্রি ও ক্রয় করে কাঁধে করে মুলা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।



ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা