মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সূর্যগিরি আশ্রমের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ যুগ যুগ ধরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আহলে বায়তে রাসুল(দঃ) এর কোরবানী চিরস্মরণীয় মুজিব শতবর্ষ স্বপ্নযাত্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউনিফর্ম বিতরণ, ইমাম হোসাইন (রাঃ)’র শাহাদাতের মাধ্যমে হক ও বাতিল এবং মুনাফিক এর পরিচয় পাওয়া যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ১১ মহরম ১৮ জুলাই শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত. বাগীশিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সংসদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ২৬ জুলাই সূর্যগিরি আশ্রমের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সনদ বিতরণ প্রিয় নবি (সাঃ) উম্মতের জন্য কারবালার ময়দানে আহলে বাইতের কুরবানী সর্বোচ্চ ত্যাগ এর শিক্ষা দেয়” লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফটিকছড়ির উদ্যোগে সূর্যগিরি আশ্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৪ শুরুঃ
নোটিশ :

ঐতিহ্যবাহী অতি পবিত্র মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী উপলক্ষে মন্দাকিনী মহাতীর্থস্নানের আদিকথা, লায়ন ডাঃ বরুণ কুমার আচার্য

হাজার বছরের পুরানো ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছে অতিপবিত্র মন্দাকিনী মহাতীর্থ। এই তীর্থেস্নানের মাধ্যমে নিজ নিজ পাপ-তাপ বিসর্জন দিয়ে সনাতনী নর-নারী পাপ ও শাপ মুক্ত হন। এই লক্ষ্যে প্রতিবছর ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা উপজাতিসহ নবদম্পতি ও সনাতনী নরনারী মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে এখানে সমবেতন হয়। ইহকাল ও পরকালে শান্তির অন্বেষণে এখানে সমবেত হয়ে ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মন্দাকিনী গ্রামে এই মহাপুণ্যস্থানে মন্দাকিনী নদী ও শিব মন্দির অবস্থিত। সেই নদীর নামে এই গ্রামের নামকরণ। মৈনাক পর্বতের চন্দ্রনাথধামের পাদদেশ থেকে উত্তরমুখী প্রবাহিত এই খরস্রোতা নদী হালদা নদীতে বিলীন হয়েছে।
মহাভারতের ভগীরত গঙ্গা আনায়ন পর্বের বর্ণমাতে: ভগরীতের সাধনায় তুষ্ট হয়ে মা গঙ্গা যখন শিবের জঠর থেকে মর্ত্যলোকের উদ্দেশ্যে ত্রিধারায় পতিত হয়, তখন গঙ্গার তিনটি ধারা ত্রিলোকের দিকে ধাবমান হয়। মর্ত্যলোকে গঙ্গা, পাতাললোকে অলকানন্দা, স্বর্গালোকে মন্দাকিনী নামে। যা সব গঙ্গারই রূপ। সেই গঙ্গাজলের পরশে মর্ত্যলোকে ভগীরতের ১৬ হাজার জাতি ও পূর্বপুরুষ অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গে গিয়েছিলেন। প্রশ্ন জাগে স্বাভাবিকভাবে যে, স্বর্গালোকে প্রবাহমান মন্দাকিনী কেন মর্ত্যলোকে?
একদা মাতা অন্নপূর্ণা কর্তৃক অভিশপ্ত হয় ব্যাসদেব। সেই অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মাতা অন্নপূর্ণার পরামর্শে ব্যাসদেব মৈনাক পর্বতে চন্দ্রনাথ রূপে স্থিত মহাদেবের সাধনা করতে আসেন। চন্দ্রনাথ রূপে মহাদেবের সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তিনি অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে পর্বতের পাদদেশে পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান করেন। পিন্ডদানে পানির প্রয়োজনে ব্যাসকুন্ডু দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমে সেখানে কূপ সৃষ্টি করেন। এখনো চন্দ্রনাথ ধামের পাদদেশে ব্যাসকাডু নামে পরিচিত এবং দৃশ্যমান। ব্যাসদেব তপস্যায় সিদ্ধিলাভ, অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া এবং পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাযজ্ঞ ইত্যাদি সম্পন্ন করার পর উৎফুল্লচিত্তে ভ্রমণে বাহির হলে মৈনাক পর্বতের পূর্বপার্শ্বে আসতেই ছোট, খরস্রোতা ও উত্তরদিকে প্রবাহমান নদী দেখতে পান।
তিনি ধ্যান যোগে এই নদীর ইতিবৃত্ত জেনে যান। তিনি নিশ্চিত হন যে এই প্রবাহমান নদী স্বর্গের মন্দাকিনী, যা মর্ত্যলোকে গঙ্গা নদী নামে প্রবাহমান। তাই পুত-পবিত্র এই নদীর উৎপত্তি স্থল থেকে এর নিবৃত্তি স্থল দেখতে ব্যাসদেব সর্বশেষ প্রাপ্ত পর্যন্ত আসেন। অর্থাৎ বর্তমান মন্দাকিনী গ্রামের শেষভাগে। ব্যাসদেব এই নদীর গুরুত্ব জেনে পবিত্র এই নদীতেস্নান ও তর্পণ করে তীর্থের নিয়ম অনুসারে এখানে নদীতটে রাত যাপন করেন। সেই দিনটি ছিল মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী। তখন থেকে অধ্যাবধি চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এই মন্দাকিনী নদীতেস্নানের প্রচলন হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দশদিন ব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা হত। বর্তমানে ২/৩ দিন অনুষ্ঠান হয় সময়ের কারণে। মন্দাকিনীতে বহুপ্রাচীন শিব মন্দিরটি এখন নতুনভাবে সংস্কার করে শিব বিগ্রহ স্থাপন করা হয়। তীর্থযাত্রীদেরস্নানের সুবিধার জন্য পাকাঘাট নির্মিত হয়েছে। রাস্তা কার্পেটিং করে সরাসরি সন্দির পর্যন্ত গাড়ি যাতায়াতের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমান পরিচালনা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় সনাতনী সম্প্রদায়ের বিত্তশালী লোকজনের সহায়তায় এবং সরকারি সহায়তায় বর্তমানে মন্দাকিনীতে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং অনেক কাজ চলমান রহিয়াছে। ২০১৯ সালের ২ ও ৩ এপ্রিল দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২ এপ্রিলের অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রীশ্রী শিব ও গঙ্গাপূজা, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, কাটিরহাট লোকনাথ সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারীর পৌরহিত্যে বিশ্বশান্তি শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞ, মন্দাকিনীস্নান ও তর্পন, মহাপ্রসাদ আস্বাদন, দেশবরেণ্য ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সনাতন ধর্ম মহাসম্মেলন, কবিয়াল শ্রী নিরঞ্জন ঘোষ ও কবিয়াল শ্রী সঞ্জয় গান্ধীর অংশগ্রহণে কবিগান। ৫ ও ৬ এপ্রিলের অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে মন্দাকিনীস্নান ও তর্পন, শ্রীশ্রী শিব পূজা, শ্রীপাদ গঙ্গাপদ গোস্বামী ও বাগীশিক হাটহাজারী উপজেলা সংসদের পরিবেশনায় শ্রীমদ্ভগবদগীতাপাঠ, মহাপ্রসাদ আস্বাদন। মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে উক্ত দুইদিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্ববান্ধবে, স্বপরিজনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ ও অনুরোধ জানাই।
লেখক : প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, মরমী গবেষক।
প্রচার সম্পাদক, মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদ

বি:দ্র: আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল ২০২৪খ্রি. মহাতীর্থ মন্দাকিনী স্নান অনুষ্ঠিত হবে।



ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা